Sunday, August 10, 2014

'আপনার মেধার প্রমাণ আপনার চূড়ান্ত ছবি' - স্টিভ ম্যাককারি

"কবিতা লেখা শেষ করে সামনে রাখুন, পড়ুন, কেউ আপনাকে প্রশ্ন করবে না আপনি কি এটা হাতে লিখেছেন নাকি টাইপ করেছেন। আপনি কবিতাটি লিখতে কত সময় ব্যয় করেছেন, কতবার খসড়া করেছিলেন, তা নিয়েও কেউ মাথা ঘামাবে না। আপনি কত ছবি তুলেছেন তাতে কিছুই যায়-আসে না। আপনার মেধার প্রমাণ আপনার চূড়ান্ত ছবি"

স্টিভ ম্যাককারি

৩০ বছরের কর্মজীবনে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন আলোকচিত্রী স্টিভ ম্যাককারি। তিনি ১৯৫০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সিনেমাটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে পড়াশোনা করতে পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু থিয়েটার আর্টসে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং গ্রাজুয়েশন শেষ করেন ১৯৭৪ সালে। স্থানীয় দৈনিক 'কলেজিয়ান' পত্রিকার জন্য ছবি তুলতে তুলতেই আলোকচিত্রকলার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তার উত্থান ৭০-এর দশকের শেষের দিকে। 'ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক' ম্যাগাজিনসহ বহু পত্রিকায় তার তোলা ছবি ছাপা হয়েছে। ১৯৮৬ সাল থেকে ম্যাগনাম ফটোসের সদস্য। ন্যাশনাল প্রেস ফটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া 'ম্যাগাজিন ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার' পুরস্কার ছাড়াও ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতায় চারবার প্রথমস্থান অধিকার করেছেন। 'টাইম' ম্যাগাজিনের জন্য আফগানিস্তান যুদ্ধের ছবি তুলে পেয়েছেন 'রবার্ট কাপা গোল্ড মেডেল' (১৯৮০)। তার সবচেয়ে বিখ্যাত ছবির শিরোনাম 'দ্য আফগান গার্ল'-বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও পরিচিত ছবির একটি। তার নতুন বইয়ের নাম 'আনটোল্ড : দ্য স্টোরিস বিহাইন্ড দ্য ফটোগ্রাফস'। 'আমেরিকান ফটো' ম্যাগাজিনে দেয়া এ জীবন্ত কিংবদন্তির সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন লেখক

____________________________________________________________________________

 আপনি বহু বছর ধরে বই বের করছেন। যখন শুরু করেছিলেন তখন আর আজকের দিনের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখেন?

কোনো পরিবর্তন আমি লক্ষ্য করি না। ছবি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন এসেছে। আগে সব ছবি প্রিন্ট করে দেখতে হতো। কিন্তু এখন কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে বসে সহজেই অসংখ্য ছবি বাছাই করা যায়। এ অংশটি বাদ দিলে বাকি সব আগের মতোই আছে।

অনেক আলোকচিত্রী বলে থাকেন যে, আগে প্রচুর ছবি অপ্রকাশিতই থেকে যেত, কিন্তু এখন ফেসবুকের ইন্সটাগ্রাম জাতীয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিসের সাহায্যে সহজেই ছবি প্রকাশ করা যাচ্ছে। আগের ছবি শেয়ার করার পদ্ধতি আর আজকের পদ্ধতির মধ্যে আপনি কি কোনো পরিবর্তন দেখেন?

মানুষ এখন বেশি ছবি নিয়ে কথা বলছে। আমরা কিন্তু প্রথম থেকেই প্রচুর ছবি নিয়ে অভ্যস্ত। ৪০ থেকে ৫০ বছর আগে আমাদের জন্য ছিল দৈনিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিন, কিন্তু এখন আছে ইন্সটাগ্রাম, ইন্টারনেট আরও কত কী_ এ হলো বিবর্তন।

আপনি যে ধরনের ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি করেন তার ভূমিকা কতটুকু?

একটা সময় ছিল যখন মানুষ তার আশপাশের ছবি তুলত। ছবিতে তার নিজের নগর, গ্রাম, শহর অথবা রাজ্য বা প্রদেশকে তুলে ধরত। ৫০ বছর আগে ভ্রমণ করা অনেক কঠিন ছিল, অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভবও। তখন মানুষ ছবি তুলতে বিদেশে যেত না। এখন আপনি কেনিয়া অথবা ব্রাজিল কিংবা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশকে নির্বাচন করতে পারেন এবং এসব দেশে যাওয়াও অসাধ্য কাজ নয়। মানুষ এখন পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণে যাচ্ছে। পৃথিবী দ্রুত গতিতে বদলাচ্ছে। ভারতকেই দেখুন। মানুষ প্রায় সবকিছুই দেখে ফেলেছে। এখন আরও গভীরে যেতে হবে। আরও গভীরে যাওয়ার জন্য কাজ করতে হবে। প্রত্যেকেই তাজমহল দেখেছেন। বিশ্ব স্থাপত্যকলার সবচেয়ে সুন্দর এ নিদর্শন সম্পর্কে আর কী বলার আছে? তাজমহল সম্পর্কে আর কী মন্তব্য করা যায়? আর কীভাবে এটিকে ব্যাখ্যা করা যায়? এখানেই চ্যালেঞ্জ।

 ছবি তুলতে স্থান নির্বাচন কীভাবে করেন?

আমি সেখানেই যাই, যে জায়গা সম্পর্কে আমি জানতে চাই। আমি যেখানে আগে গেছি সেখানে আবারও যেতে চাই, যাতে ওই স্থানকে আরও বেশি জানতে পারি। আমি ইরানে যেতে চাই। আমার মনে হয়, ইরান ভ্রমণ অত্যন্ত আনন্দদায়ক হবে। আমি কোথায় যাব সেই সিদ্ধান্ত আমার আগ্রহের ওপর নির্ভর করে।

ছবি তোলার জন্য স্থান নির্বাচনের পর কী করেন?

কোনো স্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত গবেষণা না করাই ভালো। নির্বাচিত জায়গায় চলে যান এবং পূর্বধারণা ছাড়াই সেই স্থানকে আবিষ্কার করুন। আপনি যদি একটি স্থান সম্পর্কে বেশি পড়াশোনা করেন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই আপনি হতাশ হবেন।

ধরুন, আপনি লিবিয়া, সিরিয়া বা আফগানিস্তানের মতো দেশে যাচ্ছেন, তাহলে সেখানে কী ঘটছে সে সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে। যদি নেপাল অথবা দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা রাশিয়ার কিছু অঞ্চলে যান, তাহলেও আপনাকে সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত খবর রাখতে হবে, যাতে আপনার সময় অপচয় না হয়। যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যেতে হবে সেগুলো সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে।


পরিবর্তন আপনার ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। আপনার ছবিতে সমাজ ও সংস্কৃতির বিবর্তন ফুটে উঠেছে। পরিবর্তন কেন আপনাকে আকর্ষিত করল?

কীভাবে বিবর্তন হয়_ আমার কাছে তা হলো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবনের পুরো ব্যবস্থায় এবং এমনকি মৃত্যুকেও আমার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়। একবার কিছু জিনিস আড়ালে চলে গেলে তা চিরদিনের জন্য হারিয়ে যেতে পারে। আমরা কেমন ছিলাম তা মনে রাখার বিষয়টি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। কেমন ছিলাম তা জানার আগ্রহই আমাকে ফিরে তাকাতে প্রলুব্ধ করে। বহু বছর আগের ছবিগুলোর দিকে ফিরে গেলে আমি দেখতে পাই, কীভাবে সবকিছু বিবর্তিত হয়েছে।

মানুষ সব সময় আপনার ছবির কেন্দ্রীয় উপজীব্য। ফটোগ্রাফি এখন বিশ্বজুড়ে একটি শক্তিশালী মাধ্যম, ফটোগ্রাফির মাধ্যমে বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আপনার পদ্ধতি কি বদলেছে?

আমার মনে হয়, মানুষ এখন বেশি সন্দেহপ্রবণ। এখনকার সব কাজেই মডেল রিলিজকে (মডেলের লিখিত অনুমোদন) গুরুত্ব দেয়া হয়। কিন্তু আমি কখনোই এ মডেল রিলিজকে গুরুত্ব দিইনি। আমার মনে হয় না আমি কখনও আমার নিজের কাজের জন্য কাউকে মডেল রিলিজের জন্য বলেছি। মডেল রিলিজে কাউকে স্বাক্ষর করতে বলার কথা আমি কল্পনাও করতে পারি না। তবে বিজ্ঞাপন বা করপোরেট কাজের ক্ষেত্রে ভিন্ন। তবে আজকাল মানুষ জানতে চায় কেন ছবি তুলছেন, ছবি কোথায় ছাপা হবে ইত্যাদি।

আমি যদি এখন পার্কে গিয়ে বাচ্চাদের ছবি তুলতে চাই, তাহলে ২০ অথবা ৩০ বছর আগের তুলনায় আমাকে বেশি অসহযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। মানুষ জানতে চায় আপনি কেন বাচ্চাদের ছবি তুলছেন। তারপরও বলব খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। এখন ক্যামেরার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আগের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ। আমি আগের চেয়ে অনেক বেশি পার্থক্য দেখি না।

আফগান গার্ল

ক্যামেরা নিয়ে শুধু হেঁটে হেঁটে নতুন জায়গাকে জানার ক্ষেত্রে আপনাকে পথিকৃৎ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আপনি কি এখনও মনে করেন এভাবেই একটি জায়গাকে অনুধাবন করা শ্রেয়?

এভাবেই একটি নতুন জায়গাকে আবিষ্কার করা সবচেয়ে স্বাভাবিক ও আবশ্যিক পদ্ধতি। আপনি একটি নতুন জায়গায় পৌঁছালেন এবং নিজেকে বললেন, 'চলো জায়গাটি আবিষ্কার করা যাক।' কাজ করার সেরা পদ্ধতি হলো, ক্যামেরা সঙ্গে নিয়ে সহজভাবে আবিষ্কার ও পর্যবেক্ষণ করা। আপনি যদি প্যারিসে থাকেন অথবা বার্মার কোনো গ্রামে, তাহলে ওই জায়গাটি সম্পর্কে সন্ধিৎসু থাকুন এবং এমন কিছুর সন্ধান করুন, যা আপনাকে টানে। আপনাকে কী মুগ্ধ করে?


স্ট্রিট ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে আপনি একটি মুহূর্তের সাক্ষী, যা হয়তো এক ধরনের গৎবাঁধা কাজ। তবুও আপনার মন কিন্তু সেই নির্দিষ্ট মুহূর্ত দ্বারা পরিচালিত হয়। শব্দ, গন্ধের দিকে আপনি সত্যিই নজর দিতে পারেন এবং দেখতে পারেন কী চলছে। আপনি কি মনে করতে পারেন আপনি শেষবার কবে শুধু নিজের জন্য কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া হাঁটতে বেরিয়েছেন? এমনকি আপনার কাছে ক্যামেরা থাকলেও আপনি প্রথমেই মনের নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যান। বাইরে গিয়ে ছবি তুলতেই হবে তা নয়। ছবি তুলতে যাওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হতে হবে, যে পৃথিবীতে বাস করি তাকে জানার সন্ধিৎসা থাকতে হবে। সময় বয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সবকিছুকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা শুরু করি।

হেনরি কারটিয়ার-ব্রেসন, আন্দ্রে কারতেশ, ডরোথিয়া ল্যাঞ্জ কিংবা ওয়াকার ইভান্সদের মতো আলোকচিত্রীদের কাছেও ফটোগ্রাফিটা ছিল পর্যবেক্ষণ এবং এ পৃথিবীর প্রতি আমাদের সন্ধিৎসা-সম্পর্কিত। একটি অবিশ্বাস্য গল্প আছে যে মুখে সেই মুখটিকে নিয়ে একটি ডকুমেন্ট বা প্রতিবেদন তৈরি করতে চাওয়ার সঙ্গে তাদের ফটোগ্রাফি সম্পর্কযুক্ত ছিল। এ পদ্ধতির ফটোগ্রাফি আমার কাছে সময় কাটানোর এক বিস্ময়কর পথ। এ হলো অবাধ প্রবাহ।

অ্যালেঙ ওয়েবের মতো ফটোসাংবাদিক বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ ঘনবসতি এবং বেশিরভাগ জায়গা গাড়ি চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, হাঁটার জন্য জায়গা কম। আপনি কী মনে করেন?

আমি সম্প্রতি আটলান্টায় গিয়েছিলাম। সেখানকার আশপাশে আমি ব্রুকলিন বা কুইন্সের মতো জায়গা খুঁজেছি। কিছু জায়গা তো অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। কেউ সেখানে হাঁটে না। পুরো লস অ্যাঞ্জেলসের মতো অবস্থা। আটলান্টায় পথচারী দেখতে পাবেন না যতক্ষণ না আপনি সানসেট বুলেবার্ডের মতো এলাকায় যাচ্ছেন। পুরো পৃথিবীটাই সমজাতীয় হয়ে যাচ্ছে। আমি যখন একটি বিমানবন্দরের মধ্য দিয়ে যাই, আমি ভাবি, 'এ হলো আমাদের ভবিষ্যৎ।' প্রতিটি বিমানবন্দর দেখতে একইরকম। সবই ইস্পাত ও কাচ দিয়ে তৈরি। আপনি ভারতের একটি শপিংমল আর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডের শপিংমলের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য পাবেন না।


একটি স্থানের সংস্কৃতির অভিনবত্ব আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। ইয়েমেন কোন কারণে অভিনব? বার্মা দেখতে যদি অন্যান্য স্থানের মতোই হয় তাহলে আপনি সেখানে কেন যেতে চাইবেন? আমরা এসব স্থানে যেতে চাই কারণ আমরা দেখতে চাই এ স্থানের মানুষের জীবনযাপন কেমন। তাদের খাবার, সঙ্গীত ও স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হতে চাই। তারা কীভাবে কাজ করে আমরা তা দেখতে চাই। তাদের ভিন্নতা আমাদের পছন্দ। আমাদের চেয়ে আলাদা তাদের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা আমাদের ভালো লাগে। এ ভিন্নতা আলোকচিত্রীদের সব সময় আকর্ষণ করে। আপনি এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পাড়ি জমান, কারণ আপনি অনুপ্রাণিত হতে চান।

আপনি কী মনে করেন ক্যামেরার উন্নত প্রযুক্তি কাজ করার পদ্ধতিকে পাল্টে দিয়েছে?

এক সময় আমি ডার্করুমে কাজ করতাম। নিজের হাতে ছবি ডেভেলপ করতাম এবং নিজেই নিজের ছবি প্রিন্ট করতাম। সেদিন আর নেই বললেই চলে। এখন আমরা ভীষণ কম আলোতেও ছবি তুলতে পারি, যা ফিল্ম ক্যামেরায় কখনোই সম্ভব ছিল না। সে সময় বাড়তি আলো ও ট্রাইপড ব্যবহার করে কম আলোতে ছবি তোলা যেত, কিন্তু আমরা সত্যিকার অর্থে ঘটনাকে ফ্রিজ করতে পারতাম না। আমরা এখন ১০ হাজার আইএসও'তে ছবি তোলার সুযোগ পাচ্ছি। এ বিরাট সুবিধা।

আগের দিনে কোডাক ট্রাই-এঙ্রে ১৬শ' আইএসও ফিল্মকেই বিশাল কিছু মনে হতো। আর এখন ১৬শ' ফিল্ম স্পিড কোনো বিষয়ই নয়। তখন তা দিয়ে যত কম আলোতে ছবি তোলা যেত এখন তারচেয়ে আরও অনেক কম আলোতে ছবি তোলা যায়। এটি একটি বড় রকমের পরিবর্তন।

আগে আমরা যখন নিজেরাই নিজেদের ছবি প্রিন্ট করতাম, তখন বার্ন ও ডজ করতাম এবং সবক'টিকে কেটে একটি তারে ঝুলিয়ে দিতাম। একটি ছবি প্রিন্ট করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যেত। এখন আর টানা তিন দিন ডার্করুমে থাকতে হয় না। এখন সব হয় কম্পিউটারে। এটিও একটি বড় পরিবর্তন। এখন আর বিভিন্ন কেমিক্যালের দরকার পড়ে না।


ক্যামেরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু?

আমি খুব বেশি টেকনিক্যাল (প্রয়োগিক) হতে চাই না। আমি এসব অপছন্দ করি। কিন্তু আমি মনে করি, ডিজিটাল ফটোগ্রাফি অগ্রগামী। শেষমেশ সবকিছু নির্ভর করবে আপনার ছবি দেখতে কেমন তার ওপর। আপনি যখন ছবি প্রিন্ট করে সামনে রাখবেন তখনই প্রমাণ বেরিয়ে আসবে। অন্য সবকিছু তখন আলোচনার বাইরে চলে যাবে। আমরা যদি ১০ থেকে ১২ বছর আগে ডিজিটাল ফটোগ্রাফি নিয়ে কথা বলতাম, তাহলে তখনকার প্রেক্ষাপটে সে আলোচনা অন্যরকম হতো। কিন্তু আজকের দিনে এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।

সবকিছুর পরও বলব, ফটোগ্রাফির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে যা ইচ্ছে ব্যবহার করুন- পিনহোল বা লাইকা বা ৮x১০ ভিউ ক্যামেরা কিংবা অন্য যা খুশি। এটি আপনার কাজ। একটি ছবি একটি কবিতার মতো। কবিতা লেখা শেষ করে সামনে রাখুন, পড়ুন, কেউ আপনাকে প্রশ্ন করবে না আপনি কি এটা হাতে লিখেছেন নাকি টাইপ করেছেন। আপনি কবিতাটি লিখতে কত সময় ব্যয় করেছেন, কতবার খসড়া করেছিলেন, তা নিয়েও কেউ মাথা ঘামাবে না। আপনি কত ছবি তুলেছেন তাতে কিছুই যায়-আসে না। আপনার মেধার প্রমাণ আপনার চূড়ান্ত ছবি।


প্রকাশকাল : ৮ আগস্ট ২০১৪, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ
৩০ বছরের কর্মজীবনে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন আলোকচিত্রী স্টিভ ম্যাককারি। তিনি ১৯৫০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সিনেমাটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে পড়াশোনা করতে পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু থিয়েটার আর্টসে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং গ্রাজুয়েশন শেষ করেন ১৯৭৪ সালে। স্থানীয় দৈনিক 'কলেজিয়ান' পত্রিকার জন্য ছবি তুলতে তুলতেই আলোকচিত্রকলার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তার উত্থান ৭০-এর দশকের শেষের দিকে। 'ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক' ম্যাগাজিনসহ বহু পত্রিকায় তার তোলা ছবি ছাপা হয়েছে। ১৯৮৬ সাল থেকে ম্যাগনাম ফটোসের সদস্য। ন্যাশনাল প্রেস ফটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া 'ম্যাগাজিন ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার' পুরস্কার ছাড়াও ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতায় চারবার প্রথমস্থান অধিকার করেছেন। 'টাইম' ম্যাগাজিনের জন্য আফগানিস্তান যুদ্ধের ছবি তুলে পেয়েছেন 'রবার্ট কাপা গোল্ড মেডেল' (১৯৮০)। তার সবচেয়ে বিখ্যাত ছবির শিরোনাম 'দ্য আফগান গার্ল'-বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও পরিচিত ছবির একটি। তার নতুন বইয়ের নাম 'আনটোল্ড : দ্য স্টোরিস বিহাইন্ড দ্য ফটোগ্রাফস'। 'আমেরিকান ফটো' ম্যাগাজিনে দেয়া এ জীবন্ত কিংবদন্তির সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন সুদীপ্ত সালাম - See more at: http://www.alokitobangladesh.com/feature-friday/2014/08/08/89424#sthash.K0NPwIDp.dpuf

৩০ বছরের কর্মজীবনে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন আলোকচিত্রী স্টিভ ম্যাককারি। তিনি ১৯৫০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সিনেমাটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে পড়াশোনা করতে পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু থিয়েটার আর্টসে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং গ্রাজুয়েশন শেষ করেন ১৯৭৪ সালে। স্থানীয় দৈনিক 'কলেজিয়ান' পত্রিকার জন্য ছবি তুলতে তুলতেই আলোকচিত্রকলার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তার উত্থান ৭০-এর দশকের শেষের দিকে। 'ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক' ম্যাগাজিনসহ বহু পত্রিকায় তার তোলা ছবি ছাপা হয়েছে। ১৯৮৬ সাল থেকে ম্যাগনাম ফটোসের সদস্য। ন্যাশনাল প্রেস ফটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া 'ম্যাগাজিন ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার' পুরস্কার ছাড়াও ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতায় চারবার প্রথমস্থান অধিকার করেছেন। 'টাইম' ম্যাগাজিনের জন্য আফগানিস্তান যুদ্ধের ছবি তুলে পেয়েছেন 'রবার্ট কাপা গোল্ড মেডেল' (১৯৮০)। তার সবচেয়ে বিখ্যাত ছবির শিরোনাম 'দ্য আফগান গার্ল'-বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও পরিচিত ছবির একটি। তার নতুন বইয়ের নাম 'আনটোল্ড : দ্য স্টোরিস বিহাইন্ড দ্য ফটোগ্রাফস'। 'আমেরিকান ফটো' ম্যাগাজিনে দেয়া এ জীবন্ত কিংবদন্তির সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন সুদীপ্ত সালাম - See more at: http://www.alokitobangladesh.com/feature-friday/2014/08/08/89424#sthash.K0NPwIDp.dpuf

No comments:

Post a Comment