শুরুটা স্মরণীয়। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের আলোকচিত্রীরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। সে অর্জনের ধারা অব্যাহত। অর্জনের দিক থেকে ২০১৪ সাল স্মরণীয় এবং অন্তত বাংলাদেশের ফটোগ্রাফির জন্য ঐতিহাসিকও। বছরের শুরুতেই আমাদের আলোকচিত্রীা বেশকিছু বিরল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ফলে বিশ্বফটোগ্রাফিতে বাংলাদেশ আবারো একটি উচ্চতর আসনের অধিকারী হয়েছে। যে প্রতিভাবান আলোকচিত্রীরা বাংলাদেশকে আবারো বিশ্বদরবারে সসম্মানে তুলে ধরেছেন তাদের কয়েকজনকে নিয়ে এই নিবন্ধ
তাসলিমা আক্তার
পৃথিবীতে এমন লোক পাওয়া দুষ্কর যিনি তাসলিমা আক্তারের ছবি দেখেনি। গত বছর সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১১শ’রও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। দেশী-বিদেশী বহু আলোকচিত্রী সেই ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেছেন। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মানবি ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছবিটি তুলতে সমর্থ্য হন ডকুমেন্টারি আলোকচিত্রী তাসলিমা আক্তার। এটি ছিল ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়া অজ্ঞাত এক নারী ও পুরুষ পোশাক শ্রমিকের আলিঙ্গনের দৃশ্য। পুরো রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনা এবং পোশাক শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের প্রতিবিম্ব হয়ে ওঠে তার সেই ‘শেষ আলিঙ্গন’ শীর্ষক ছবি। ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো পৃথিবীতে। বিশ্বের বাঘা বাঘা সব গণমাধ্যমে এই ছবিটি উঠে আসে। অবশেষে ছবিটি ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো ২০১৪ পুরস্কার অর্জন করে। এ পুরস্কারকে বিশ্ব ফটোসাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী হিসেবে তিনি এ পুরস্কার অর্জন করলেন। ‘স্পট নিউজ’ (সিঙ্গেল) বিভাগে তার এই আলোচিত ছবি তৃতীয় স্থান অধিকার করে। তাসলিমা আক্তারের জন্ম ১৯৭৪ সালে। তিনি একাধারে একজন আলোকচিত্রী, সমাজকর্মী এবং আলোকচিত্রকলার শিক্ষক। রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে পোশাক শ্রমিকদের অমানবিক জীবনযাপনকে ক্যামেরাবন্দি করছেন।
কেএম আসাদ
অন্যান্য পুরস্কার ছাড়াও ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার কেএম আসাদ সম্প্রতি অর্জন করেছেন বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফটোগ্রাফি পুরস্কার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল প্রেস ফটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনপিপিএ) আয়োজিত ফটোসাংবাদিকতাবিষয়ক বার্ষিক প্রতিযোগিতায় (২০১৪) কনটেম্পোরারি ইস্যু (স্টোরি) বিভাগে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। আলোচিত রানা প্লাজা ধসের ছবিগুলোর জন্য তিনি এই বিরল সম্মাননা পেয়েছেন। ছবির ভাষায় তিনি রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি বয়ান করেছেন। মোট ১২টি সাদা-কালো ছবি। গল্প শুরু হয়েছে ভবনের ধ্বংসস্তূপের ছবি দিয়ে, শেষে হয়েছে নাম-ফলকহীন কবরের ছবি দিয়ে। সমাহিত ব্যক্তির পরিচয় হিসেবে আছে একটি ডিএনএ নম্বর। প্রতিটি ছবি মর্মস্পর্শী। এই পুরস্কারের মাধ্যমে শুধু এই ছবিগুলোর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য আরো বৃদ্ধি পায়নি, পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টিও আরো একবার বিশ্ব দরবারে উচ্চারিত হলো। বাংলাদেশের স্টক ফটোগ্রাফি অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবে কেএম আসাদের পরিচিত রয়েছে। তার স্টক ফটোগ্রাফির ভা-ারে গোটা বাংলাদেশ মূর্ত হয়ে আছে। জন্ম ১৯৮৩ সালে।
সরকার প্রতীক
সরকারে প্রতীকের ছবি দেখলেই চিনে নেয়া যায় এই ছবি আলোকচিত্রী সরকার প্রতীকের। মনে হবে কিছুটা ওভার এক্সপোজ্ড। ছবির হাইলাইট অংশগুলো পুরো ছবিতে প্রাধান্য বিস্তার করে, বিশেষ করে শুভ্রতা তার ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই শুভ্রতা দর্শকের মনে একধরনের বিশুদ্ধতার অনুভূতি জাগায়। সরকার প্রতীকের নিজস্ব স্টাইল শুধু বাংলাদেশের বোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে তা নয়, অলোকচিত্রকলা নিয়ে কাজ করেন বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানেরও বাহবা পেয়েছে। প্রতিশ্রুতিশীল আলোকচিত্রী হিসেবে সম্প্রতি তিনি অর্জন করেছেন ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো’র ২০১৪ জুপ সোয়ার্ট মাস্টার কাস। এটি একটি আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ। প্রতি বছর বিশ্বের উদীয়মান তরুণ আলোকচিত্রীদের জন্য এই বিরল সুযোগ রাখে নেদারল্যান্ডের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো কর্তৃপক্ষ। এই ওয়ার্কশপের জন্য নির্বাচিত হওয়া অনেক সম্মানের ব্যাপার। এবছর ৫৩টি দেশের মোট ১শ ৪১জন আলোকচিত্রী মনোনয়ন পান। তাদের মধ্য থেকে ১২জন আলোকচিত্রীর পোর্টফোলিও চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। তালিকায় একমাত্র বাংলাদেশ প্রতিনিধি সরকার প্রতীক। এবছরের নভেম্বরে আমস্টারডামে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মাস্টারদের তত্ত্বাবধানে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। সরকার প্রতীকের জন্ম ১৯৮৬ সালে। ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফির পাশাপাশি পাঠশায় শিক্ষকতা করছেন।
এএম আহাদ
আন্তর্জাতিক নিউজ এজেন্সি এপি’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফটোসাংবাদিক এএম আহাদ। জন্ম ১৯৮৯ সালে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে উচ্চশিক্ষা শেষ করেছেন। তিনি এবছর ন্যাশনাল প্রেস ফটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফটোসাংবাদিকতাবিষয়ক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। তার তোলা বাংলাদেশের হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে এক মহিলা আইনজীবীকে পেটানোর ছবিটি প্রতিযোগিতার জেনারেল নিউজ বিভাগে পুরস্কার অর্জন করে। গতবছরের ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে নজিরবিহীন সহিংসতা প্রত্যক্ষ করে বিশ্ববাসী। এসময় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এবং বিরোধী দল বিএনপি’র নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংর্ঘষের এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগের কিছু নেতা কর্মী বিএনপি পন্থী একজন মহিলা আইনজীবীকে রাস্তায় ফেলে বেদম পেটাতে থাকে। সেই ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন আলোকচিত্রী আহাদ। ছবিটি বাংলাদেশের রাজনীতির নোংরা ও সন্ত্রাসী রূপকে চিত্রায়িত করেছে। ছবিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাত সংস্থার নজর কাড়তে সক্ষম হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এই আন্তর্জাতিক অর্জন।
রাহুল তালুকদার
রাহুল তালুকদার এখনো ফটোগ্রাফির শিক্ষার্থী। বয়স মাত্র ২৩ বছর। ঢাকার পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া একাডেমীতে ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি পত্রিকায় কাজ করছেন। এমন অবস্থায় অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি অর্জন করেছেন এবছরের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো পুরস্কার। তার ছবির বিষয় ছিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনা। ফটোসাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় এই পুরস্কার তাকে এনে দিয়েছে তারকা খ্যাতি। ‘স্পট নিউজ’ (স্টোরি) বিভাগে তৃতীয় স্থান দখল করে নেয় তার ১১টি সাদা-কালো ছবি দিয়ে সাজানো ‘কোলাপ্স অব রানা প্লাজা’ শিরোনামের গল্প। রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে শুরু করে হাসপাতালে ভর্তি মুমূর্ষু পোশাক শ্রমিকদের আর্তনাদের হৃদয়বিদারক কাহিনী ছবিগুলোতে ফুটে উঠেছে। বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিতে তার ছবিগুলো যে সফল হয়েছে এই সম্মানজনক আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্তিই তার প্রমাণ। মজার ব্যাপার হলো, ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো পুরস্কারই এই তরুণ আলোকচিত্রীর প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সেদিক থেকে তাকে ভাগ্যবান বলতেই হবে। শুরুই হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী পুরস্কার দিয়ে।
প্রকাশকাল : ২৩ মে ২০১৪, সাপ্তাহিক ২০০০ (বর্ষশুরু সংখ্যা)
তাসলিমা আক্তার
পৃথিবীতে এমন লোক পাওয়া দুষ্কর যিনি তাসলিমা আক্তারের ছবি দেখেনি। গত বছর সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১১শ’রও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। দেশী-বিদেশী বহু আলোকচিত্রী সেই ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেছেন। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মানবি ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছবিটি তুলতে সমর্থ্য হন ডকুমেন্টারি আলোকচিত্রী তাসলিমা আক্তার। এটি ছিল ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়া অজ্ঞাত এক নারী ও পুরুষ পোশাক শ্রমিকের আলিঙ্গনের দৃশ্য। পুরো রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনা এবং পোশাক শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের প্রতিবিম্ব হয়ে ওঠে তার সেই ‘শেষ আলিঙ্গন’ শীর্ষক ছবি। ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো পৃথিবীতে। বিশ্বের বাঘা বাঘা সব গণমাধ্যমে এই ছবিটি উঠে আসে। অবশেষে ছবিটি ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো ২০১৪ পুরস্কার অর্জন করে। এ পুরস্কারকে বিশ্ব ফটোসাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী হিসেবে তিনি এ পুরস্কার অর্জন করলেন। ‘স্পট নিউজ’ (সিঙ্গেল) বিভাগে তার এই আলোচিত ছবি তৃতীয় স্থান অধিকার করে। তাসলিমা আক্তারের জন্ম ১৯৭৪ সালে। তিনি একাধারে একজন আলোকচিত্রী, সমাজকর্মী এবং আলোকচিত্রকলার শিক্ষক। রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে পোশাক শ্রমিকদের অমানবিক জীবনযাপনকে ক্যামেরাবন্দি করছেন।
![]() |
| © তাসলিমা আক্তার |
কেএম আসাদ
অন্যান্য পুরস্কার ছাড়াও ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার কেএম আসাদ সম্প্রতি অর্জন করেছেন বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফটোগ্রাফি পুরস্কার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল প্রেস ফটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনপিপিএ) আয়োজিত ফটোসাংবাদিকতাবিষয়ক বার্ষিক প্রতিযোগিতায় (২০১৪) কনটেম্পোরারি ইস্যু (স্টোরি) বিভাগে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। আলোচিত রানা প্লাজা ধসের ছবিগুলোর জন্য তিনি এই বিরল সম্মাননা পেয়েছেন। ছবির ভাষায় তিনি রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি বয়ান করেছেন। মোট ১২টি সাদা-কালো ছবি। গল্প শুরু হয়েছে ভবনের ধ্বংসস্তূপের ছবি দিয়ে, শেষে হয়েছে নাম-ফলকহীন কবরের ছবি দিয়ে। সমাহিত ব্যক্তির পরিচয় হিসেবে আছে একটি ডিএনএ নম্বর। প্রতিটি ছবি মর্মস্পর্শী। এই পুরস্কারের মাধ্যমে শুধু এই ছবিগুলোর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য আরো বৃদ্ধি পায়নি, পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টিও আরো একবার বিশ্ব দরবারে উচ্চারিত হলো। বাংলাদেশের স্টক ফটোগ্রাফি অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবে কেএম আসাদের পরিচিত রয়েছে। তার স্টক ফটোগ্রাফির ভা-ারে গোটা বাংলাদেশ মূর্ত হয়ে আছে। জন্ম ১৯৮৩ সালে।
![]() |
| © কেএম আসাদ |
সরকার প্রতীক
সরকারে প্রতীকের ছবি দেখলেই চিনে নেয়া যায় এই ছবি আলোকচিত্রী সরকার প্রতীকের। মনে হবে কিছুটা ওভার এক্সপোজ্ড। ছবির হাইলাইট অংশগুলো পুরো ছবিতে প্রাধান্য বিস্তার করে, বিশেষ করে শুভ্রতা তার ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই শুভ্রতা দর্শকের মনে একধরনের বিশুদ্ধতার অনুভূতি জাগায়। সরকার প্রতীকের নিজস্ব স্টাইল শুধু বাংলাদেশের বোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে তা নয়, অলোকচিত্রকলা নিয়ে কাজ করেন বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানেরও বাহবা পেয়েছে। প্রতিশ্রুতিশীল আলোকচিত্রী হিসেবে সম্প্রতি তিনি অর্জন করেছেন ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো’র ২০১৪ জুপ সোয়ার্ট মাস্টার কাস। এটি একটি আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ। প্রতি বছর বিশ্বের উদীয়মান তরুণ আলোকচিত্রীদের জন্য এই বিরল সুযোগ রাখে নেদারল্যান্ডের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো কর্তৃপক্ষ। এই ওয়ার্কশপের জন্য নির্বাচিত হওয়া অনেক সম্মানের ব্যাপার। এবছর ৫৩টি দেশের মোট ১শ ৪১জন আলোকচিত্রী মনোনয়ন পান। তাদের মধ্য থেকে ১২জন আলোকচিত্রীর পোর্টফোলিও চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। তালিকায় একমাত্র বাংলাদেশ প্রতিনিধি সরকার প্রতীক। এবছরের নভেম্বরে আমস্টারডামে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মাস্টারদের তত্ত্বাবধানে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। সরকার প্রতীকের জন্ম ১৯৮৬ সালে। ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফির পাশাপাশি পাঠশায় শিক্ষকতা করছেন।
![]() |
| © সরকার প্রতীক |
এএম আহাদ
আন্তর্জাতিক নিউজ এজেন্সি এপি’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফটোসাংবাদিক এএম আহাদ। জন্ম ১৯৮৯ সালে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে উচ্চশিক্ষা শেষ করেছেন। তিনি এবছর ন্যাশনাল প্রেস ফটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফটোসাংবাদিকতাবিষয়ক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। তার তোলা বাংলাদেশের হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে এক মহিলা আইনজীবীকে পেটানোর ছবিটি প্রতিযোগিতার জেনারেল নিউজ বিভাগে পুরস্কার অর্জন করে। গতবছরের ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে নজিরবিহীন সহিংসতা প্রত্যক্ষ করে বিশ্ববাসী। এসময় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এবং বিরোধী দল বিএনপি’র নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংর্ঘষের এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগের কিছু নেতা কর্মী বিএনপি পন্থী একজন মহিলা আইনজীবীকে রাস্তায় ফেলে বেদম পেটাতে থাকে। সেই ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন আলোকচিত্রী আহাদ। ছবিটি বাংলাদেশের রাজনীতির নোংরা ও সন্ত্রাসী রূপকে চিত্রায়িত করেছে। ছবিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাত সংস্থার নজর কাড়তে সক্ষম হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এই আন্তর্জাতিক অর্জন।
![]() |
| © এএম আহাদ |
রাহুল তালুকদার
রাহুল তালুকদার এখনো ফটোগ্রাফির শিক্ষার্থী। বয়স মাত্র ২৩ বছর। ঢাকার পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া একাডেমীতে ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি পত্রিকায় কাজ করছেন। এমন অবস্থায় অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি অর্জন করেছেন এবছরের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো পুরস্কার। তার ছবির বিষয় ছিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনা। ফটোসাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় এই পুরস্কার তাকে এনে দিয়েছে তারকা খ্যাতি। ‘স্পট নিউজ’ (স্টোরি) বিভাগে তৃতীয় স্থান দখল করে নেয় তার ১১টি সাদা-কালো ছবি দিয়ে সাজানো ‘কোলাপ্স অব রানা প্লাজা’ শিরোনামের গল্প। রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে শুরু করে হাসপাতালে ভর্তি মুমূর্ষু পোশাক শ্রমিকদের আর্তনাদের হৃদয়বিদারক কাহিনী ছবিগুলোতে ফুটে উঠেছে। বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিতে তার ছবিগুলো যে সফল হয়েছে এই সম্মানজনক আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্তিই তার প্রমাণ। মজার ব্যাপার হলো, ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো পুরস্কারই এই তরুণ আলোকচিত্রীর প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সেদিক থেকে তাকে ভাগ্যবান বলতেই হবে। শুরুই হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী পুরস্কার দিয়ে।
![]() |
| © রাহুল তালুকদার |
প্রকাশকাল : ২৩ মে ২০১৪, সাপ্তাহিক ২০০০ (বর্ষশুরু সংখ্যা)










No comments:
Post a Comment